main-banner

বাস-ট্রেন-লঞ্চ ও বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা

ডাক২৪ ডেস্ক প্রতিবেদনঃ   সাধারণ ছুটির পর এবার গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গতকাল থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আর আগামীকাল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সড়কপথে গণপরিবহন লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধের দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সেই দাবিরই প্রতিফলন ঘটল সরকারের সিদ্ধান্তে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সচিবালয় থেকে এক ভিডিও বার্তায় গণপরিবহন লকডাউনের ঘোষণা দেন।

ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার দেশবাসী, জনগণ, যাত্রী সাধারণ, মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছে, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সারা দেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি ও পচনশীল পণ্য পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ সময়ে কেবল পণ্য ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন সীমিত পরিসরে চলবে।

গতকাল বেলা ২টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, অনেক ট্রেন পথিমধ্যে চলমান অবস্থায় আছে। ট্রেনগুলো ঢাকায় এসে আবার তাদের নির্ধারিত ছাড়ার প্রান্তে চলে যাবে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে শিডিউল অনুযায়ী কোনো ট্রেন চলবে না।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে আজ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে অভ্যন্তরীণ রুটে সব ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া বাকি সব দেশের ফ্লাইট আসা বন্ধ রয়েছে আগে থেকেই। যে চার দেশ ও অঞ্চল বাকি রয়েছে, তাদের মধ্যে হংকং থেকে আসা ক্যাথে প্যাসিফিক (ড্রাগন এয়ার) ২৮ মার্চ থেকে আর আসবে না বলে জানিয়েছে। আর থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের যে ফ্লাইটটি আসছিল, সেটিও বুধবার থেকে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে এখন কেবল যুক্তরাজ্য ও চীনের ফ্লাইট দেশে আসবে।

in news advert

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ সব বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। আন্তর্জাতিক চারটি আকাশপথে ফ্লাইট বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এর আগে গত ২১ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, দেশে করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বিস্তার রোধে ২১ মার্চ দিনগত রাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং ভারত থেকে কোনো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার অনুমতি দেয়া হবে না। ওই বার্তার ফলে যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও হংকং বাদে সব আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। ২৫ ও ২৮ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ড ও হংকংয়ের ফ্লাইটও।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ নৌপথ: করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশে নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গতকাল বেলা দেড়টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সংস্থাটি। তবে এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক থাকবে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক জানান, গত কয়েকদিন ধরে গাদাগাদি করে লঞ্চে যাত্রীরা গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নৌপথে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে।

টার্মিনাল-স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড়: বৃহস্পতিবার থেকে টানা ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়টিতে সরকারের পক্ষ থেকে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এ পরামর্শের তোয়াক্কা না করে দলে দলে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। সোমবার রাত থেকেই স্টেশন, টার্মিনালে বাড়তে শুরু করে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। গতকালও গ্রামে যেতে ঢাকার বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে ভিড় করেছে মানুষ। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় সব ট্রেনেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ছাদ এমনকি ইঞ্জিনেও যাত্রীদের থাকতে দেখা গেছে। সদরঘাট থেকে সবকয়টি লঞ্চ ছেড়েছে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে। দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে গেছে ভরা যাত্রী নিয়ে।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও ডাক২৪ অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। খবর, বিনোদন, খেলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবি/ভিডিওসহ ইমেইল করুন-: news@dak24.comএ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

মন্তব্য

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Dak 24
hit counter